দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতে শুরু হওয়া ভাইরাল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বিতর্ক এবার ছড়িয়ে পড়েছে পাকিস্তানেও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন আত্মপ্রকাশ করছে ‘ককরোচ আওয়ামী পার্টি’, ‘ককরোচ আওয়ামী লীগ’ ও ‘মুত্তাহিদা ককরোচ মুভমেন্ট’-এর মতো একাধিক ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম।
গত ১৬ মে ভারতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি চালুর পর অনলাইনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। তরুণদের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা এই ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নাম রাখা হয় ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপির আদলে। এর নেতৃত্বে রয়েছেন অভিজিত নামের এক তরুণ। অল্প সময়েই দলটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখো মানুষের নজর কাড়ে।
ভারতে এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্তের এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। এক শুনানিতে তিনি কিছু বেকার তরুণকে ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করে বলেন, তারা বিভিন্ন পরিচয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোকে আক্রমণ করছে।
এরপরই তেলাপোকাকে প্রতীক বানিয়ে শুরু হয় ব্যঙ্গাত্মক এই অনলাইন আন্দোলন। কঠিন পরিস্থিতিতেও টিকে থাকার প্রতীক হিসেবে তেলাপোকাকে ব্যবহার করে তরুণরা নিজেদের হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন।
এখন পাকিস্তানেও একই ধাঁচে একাধিক পেজ ও অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়েছে। ‘ককরোচ আওয়ামী পার্টি’র একটি প্রোফাইলে লেখা হয়েছে, ‘তরুণদের রাজনৈতিক ফ্রন্ট, তরুণদের দ্বারা, পাকিস্তানের জন্য।’ আরেকটি অ্যাকাউন্টে বলা হয়েছে, ‘সিস্টেম যাদের তেলাপোকা ভেবেছে, আমরা সেই জনগণেরই কণ্ঠস্বর।’
পাকিস্তানি সংস্করণগুলোর লোগো ভারতের সিজেপির সঙ্গে মিল থাকলেও তারা সবুজ-সাদা রঙের থিম ব্যবহার করছে। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ, পিএমএল-এন ও পিপিপির মতো প্রচলিত রাজনৈতিক শক্তির বিকল্প বার্তা দিতেই এই ব্র্যান্ডিং করা হচ্ছে।
ভারতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র উদ্যোক্তা অভিজিত যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে পাবলিক রিলেশনসে পড়াশোনা করেছেন। তিনি আগে আম আদমি পার্টির রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ হিসেবেও কাজ করেছেন। দলটির ইতোমধ্যে ইশতেহার ও ওয়েবসাইট চালু হয়েছে।
তবে পাকিস্তানের সংস্করণগুলো এখনো ছড়ানো-ছিটানো অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন কনটেন্ট নির্মাতা নিজেদের মতো করে এই ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলনের আলাদা সংস্করণ পরিচালনা করছেন।
এমএস/